বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮

বিশেষায়িত বিভাগসমূহ

গণপূর্ত স্বাস্থ্য উইং:

বাংলাদেশ বিশাল জনগোষ্ঠীর এক ছোটো দেশ। এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব বিশ্বের সর্বোচ্চ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অধীনে বিদ্যমান সুযোগ সুবিধাগুলো জনগনের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয় এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবার জন্য অনেক নতুন অবকাঠামো, এদের উন্নয়ন ও বিদ্যমান অবকাঠামোর রিমডেলিং প্রয়োজন। তাছাড়া স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নার্স, মেডিকেল টেকনিশিয়ান, প্যারামেডিক ইত্যাদির ঘাটতি লক্ষনীয় যা ছাড়া আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার স্বপ্ন ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে। হাসপাতালের পাশাপাশি তাই কিছু প্রতিষ্ঠান / কলেজ ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিপ্রেক্ষিতে দেশের স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো নির্মান ও রক্ষনাবেক্ষণে গণপূর্ত অধিদপ্তর অনেকদিন ধরেই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে। বলতে গেলে অতীতে দেশের অধিকাংশ স্বাস্থ্য সেবার সুবিধাগুলোই গণপূর্ত অধিদপ্তরের তৈরী। গণপূর্ত অধিদপ্তর এখনো সব বড় বড় হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলো নির্মান ও রক্ষণাবেক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।২৭শে মে, ১৯৯০ সালে একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে গণপূর্ত স্বাস্থ্য উইং প্রতিষ্ঠা করা হয় যার লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অধীনে সকল পূর্ত কাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে সহযোগিতার জন্য আছেন একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, একজন নির্বাহী প্রকৌশলী, কয়েকজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও অন্যান্য কর্মচারীবৃন্দ। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অন্যান্য বিভাগের মতই স্বাস্থ্য উইং তার কাজ স্বচ্ছন্দে সম্পাদন করার জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তর ও গণপূর্ত অধিদপ্তর ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল  বিভাগের সহায়তা পেয়ে থাকে। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, হাসপাতাল বানাতে বিশেষায়িত জ্ঞানের প্রয়োজন হয় কারণ এখানে প্রচুর ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল যন্ত্রপাতির ব্যবহার হয়। বিগত কয়েক বছর ধরে সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর নির্মান ও রক্ষণাবেক্ষণে গণপূর্ত অধিদপ্তর ব্যপক দক্ষতা অর্জন করেছে।

 

গণপূর্ত অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য উইং এর মূল দায়িত্বগুলো হলো:

 

  • স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ সংযোগ বজায় রাখা এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের  মাঠ পর্যায়ের অফিস,স্থাপত্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের মাঝে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করা।
  • স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের বড় বড় কাজের জন্য দরপত্র তৈরী ও দরপত্র আমন্ত্রণ করা।
  • গণপূর্ত অধিদপ্তর নকশা বিভাগ ও স্থাপত্য অধিদপ্তরের মাঝে সংযোগ বজায় রাখা যাতে কাঠামো ও স্থাপত্য নকশাগুলো সময়মতো পাওয়া যায়।
  • স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের অধীনের প্রকল্পগুলোর ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি দেখাশোনা করা ও সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করা।

 

পরিকল্পনা ইউনিট:

সঠিক পরিকল্পনা হলো একটি প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত। এই প্রক্রিয়া শুরু হয় সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনালয়ের প্রয়োজনের সাথে আরো অনেক তথ্য যোগাড় করার মাধ্যমে যেমন প্রকল্প এলাকার ভূসংস্থান ও জনসংখ্যা, মাটির অবস্থা, জলাশয় ও পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, পানির গুনমান ইত্যাদি। এই সকল তথ্য পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ প্রকৌশলিক মানদন্ড বিবেচনায় একটি খসড়া প্রকল্প ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয় যা পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের জন্য ডিপিপির ভিত্তি হিসাবে কাজ করে। এই কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর (পি এন্ড এসপি) নেতৃত্বে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নিজস্ব পরিকল্পনা ইউনিট রয়েছে। তাকে সহযোগিতার জন্য রয়েছেন দুইজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী যারা প্রকল্প সার্কেল ১ ও ২ এর নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। এই দুটি প্রকল্প সার্কেলের অধীনে চারটি প্রকল্প বিভাগ রয়েছে। প্রকল্প বিভাগগুলো নির্বাহী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয় যাকে সহযোগিতার জন্য থাকেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী এবং অন্যান্য কর্মচারীবৃন্দ। পরিকল্পনা ইউনিটের প্রকল্প সার্কেল ১ -এর অধীনে একটি জরিপ বিভাগ রয়েছে যা প্রকল্প এলাকার ভূসংস্থান জরিপে সহায়তা করে।

 

পরিকল্পনা ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো হলো:

 

  • প্রকল্প এলাকার স্থাপত্য পরিকল্পনার জন্য ভূতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা করা
  • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রানলয় উত্থাপিত সরকারী সকল প্রাতিষ্ঠানিক ও আবাসিক দালানকোঠা তৈরী প্রকল্পের প্রস্তূতি, মূল্যায়ন এবং কার্যধারা প্রণয়ন
  • সরকারের অন্যান্য মন্ত্রনালয় উত্থাপিত দালানকোঠা তৈরী প্রকল্পের মূল্যায়নে অংশগ্রহন করা
  • সরকারের অন্যান্য বিভাগের পূর্ত কাজের যাচাই বাছাই করা
  • পরিকল্পনা কমিশনের বিভিন্ন পি.ই.সি. সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে ডিপিপি /টিপিপি সংশোধন
  • গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিডিউল অফ রেট -এর বাইরের পূর্ত কাজের নির্মান হার বিশ্লেষণ

 

পিডব্লিউডি স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ইউনিট:

গণপূর্ত বিভাগের প্রধান কার্যালয়ে একটি শক্তিশালী ও সুসজ্জিত নকশা বিভাগ রয়েছে যার নেতৃত্বে রয়েছেন একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পি এন্ড এসপি)। তার অধীনে দুইজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নেতৃত্বে দুটি ডিজাইন সার্কেল রয়েছে।প্রতিটি ডিজাইন সার্কেলে তিনটি করে ডিজাইন ডিভিশন আছে যেগুলোর নেতৃত্বে থাকেন একজন করে নির্বাহী প্রকৌশলী। প্রত্যেক নির্বাহী প্রকৌশলী চারজন স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার এবং অন্যান্য সহযোগী কর্মচারীদের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন।

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীরাই হলেন যেকোনো স্ট্রাকচারাল ডিজাইন অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রধান কর্তাব্যক্তি। তারা নির্বাহী প্রকৌশলীদের কাজ বন্টন করে থাকেন এবং তাদেরকে নকশা কাজের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার জন্য মান নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, মিতব্যায়, নীতি ও নৈতিকতা বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

নির্বাহী প্রকৌশলীরাই সকল ডিজাইন ক্যালকুলেশন এবং বিস্তারিত কর্ম পদ্ধতির প্রাথমিক যাচাইকারী। তারা তাদের অধীনস্ত সহকর্মীদের সর্বাধুনিক নকশার নীতিমালা মেনে কাজ করার জন্য প্রযুক্তিগত নির্দেশনা প্রদান করেন।

নির্বাহী প্রকৌশলীর অধীনে মূলত সহকারী প্রকৌশলী অথবা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীরা থাকেন। তারাই কাঠামো বিশ্লেষণ, হিসাব নিকাশ ও নকশা সম্পাদনের মূল কাজগুলো করেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সর্বাধুনিক কম্পিউটার ব্যবহার করে বিশ্লেষণ ও নকশাগুলো করা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডিজাইনারদের মৌলিক জ্ঞান বাড়াতে হাতে কলমে নকশা করা হয়। তাদের তত্ত্বাবধানেই খসড়া কর্মীরা কাঠামোর অঙ্কন ও সূক্ষ্য কাজগুলো করে থাকেন।

সাধারণত কাঠামো নকশায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)-ই প্রাথমিক ভিত্তি তবে অবস্থাভেদে অন্যান্য আন্তর্জাতিক কোড যেমন আমেরিকান কনক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই)-ও বহুল ব্যবহৃত হয়।

যদিও বর্তমানে পিডব্লিউডি প্রধানত ভবন নিয়ে কাজ করে, কিনতু কাঠামো নকশা শুধুমাত্র ভবনে সীমাবদ্ধ নেই। ভবন ছাড়াও কাঠামো ও উপ-কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ঠ অবকাঠামোও পিডব্লিউডি প্রকৌশলীরা দক্ষতার সাথেই করে থাকেন।

পিডব্লিউডি নকশা বিভাগ, ভূমিকম্প প্রতিরোধী কাঠামো, উচু ও বহুতল ভবন এবং বেজমেন্টের নকশা করতে বিশেষ মনোযোগ দিয়ে থাকে। ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধী নকশার ম্যানুয়াল প্রস্তুতের কাজও এগিয়ে চলছে এবং তা অচিরেই শেষ হবে।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনের ভিত্তিতে পিডব্লিউডি তার রুলস অব বিজনেস-এর কাজের বাইরেও পরামর্শ সেবা দিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক এমন কিছু কাজের মাঝে রয়েছে রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, বারডেম, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউণ্ডেশন, কাকরাইলের আর্চ বিশপ হাউস ইত্যাদি। কোনো ভবন ধসে পড়ার তদন্তকাজে পিডব্লিউডির ডিজাইন প্রফেশনালরা যথেষ্ট অবদান রাখছেন।

পিডব্লিউডি নকশা বিভাগের চূড়ান্ত ও খসড়া নকশার কাজগুলো সম্পূর্ণভাবে কম্পিউটারের সাহায্যে করা হয়। নকশা এবং এর বিশ্লেষণের জন্য STAAD Pro, ETABS, GRASP, GEAR, SAP এবং STAAD Foundation-এর সর্বশেষ ভার্সন ব্যবহার করা হয়।

পিডব্লিউডির খসরা কর্মীরা যথেষ্ঠ অভিজ্ঞ। সব ধরনের খসড়া কাজ AutoCAD-এর মাধ্যমে করা হয়। খসড়া বিভাগে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মুদ্রণ যন্ত্রপাতি রয়েছে।

পিডব্লিউডি নকশা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনার মধ্যে রয়েছে পূর্ত কাজের দর সূচী ও দর বিশ্লেষণ। এগুলো সাধারণত দুই বছর পরপর প্রকাশিত হয়। প্রকাশনাগুলো নির্মান সামগ্রীর বাজারদর জরিপ, জনবল ও একক মূল্যের চুলচেরা হিসাব নিকাশের উপর ভিত্তি করে করা হয়। এই প্রকাশনাগুলো বিভিন্ন সরকারী সংস্থা ও বেসরকারী খাতের পেশাদাররা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে থাকেন। এই দরসূচী, কাজের প্রাক্কলন এবং বিওকিউ সংক্রান্ত সকল কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করার জন্য একটি সফটওয়্যার তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে যা অচিরেই শেষ হবে।

পিডব্লিউডি নকশা বিভাগ জাইকার সাথে একটি প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রকল্পে কাজ করছে যার নাম হলো "Capacity Development on Natural Disaster-Resistant Technique of Construction and Retrofitting for Public Buildings (CNCRP)". এই প্রকল্পের আশু উদ্দেশ্য হলো নতুন ভবনের নকশা প্রণয়ন, তার মূল্যায়ন এবং বিদ্যমান সরকারী ভবনে ভূমিকম্প প্রতিরোধী রেট্রোফিটিং ডিজাইনের জন্য গণপূর্ত বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। এই প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো সরকারী ভবনের নিরাপত্তা উন্নত করা।

ইতিমধ্যে গণপূর্ত নকশা বিভাগ ভবন মূল্যায়ন এবং সংশোধন ব্যবস্থা খাতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন করেছে এবং এ সংক্রান্ত জ্ঞান পেশাজীবিদের মাঝে সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে প্রচার করছে। তারা তৈরী পোশাক নির্মাতাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে যেন তাদের কারখানাগুলোকে রেট্রোফিটিং-এর মাধ্যমে ভূমিকম্প প্রতিরোধী ও অগ্নি নিরাপত্তা বিধান করা যায়।

গণপূর্ত নকশা বিভাগ নিরাপদ ভবনের চাহিদা মিটাতে নিরলসভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং তারা আশা করে দেশের নিরাপদ ভবন নকশার কাজে অচিরেই একটি নির্ভরযোগ্য পেশাদার দল হিসাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করবে।

 

ইলেক্ট্রো মেকানিক্যাল ইউনিট:

ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল কাজ হলো একটি ভবন নির্মানের অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর অনেকগুলো অনুষঙ্গ আছে যেমন অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন, সাব স্টেশন, HVAC সিস্টেম, লিফট / চলন্ত সিড়ি, পানির পাম্প, আঙ্গিনার লাইট, আগুন সনাক্তকরণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা, ভবন নিরাপত্তা, ভবন অটোমেশন, মেডিকেল গ্যাস পাইপলাইন সিস্টেম, মঞ্চের আলোক ও শব্দ নিয়ন্ত্রন ও সমন্বয় ব্যবস্থা, কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং সিস্টেম, সৌর বিদ্যুৎ,ফোয়ারা ইত্যাদি। এসকল কাজের সঠিক পরিকল্পনা এবং কার্যকর ও নিরাপদ বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োজন। ভবন নির্মাণ কাজের ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল কাজগুলোর পরিকল্পনা, নকশা ও বাস্তবায়নের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল ইউনিট রয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) ও একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম পি এন্ড ডি) -এর নেতৃত্বে চারজন করে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রয়েছেন। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) এর সার্কেলগুলো হলো: ই/এম সার্কেল ১, ২, ৩ এবং ৪। ই/এম সার্কেল ১,২,৩ ও ৪ এর অধীনে মোট তেরটি ই/এম বিভাগ রয়েছে যার মধ্যে উড ওয়ার্কশপ বিভাগ এবং ওয়ার্কশপ বিভাগ নামে দুইটি বিভাগ আছে। প্রতিটি বিভাগের প্রধান হিসাবে থাকেন একজন নির্বাহী প্রকৌশলী। উড ওয়ার্কশপ বিভাগের দায়িত্ব হলো দেশের সরকারী প্রকল্পের জন্য আসবাবপত্র তৈরী ও সরবরাহ করা। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম পি এন্ড ডি) এর সার্কেলগুলো হলো: ই/এম পিএন্ডডি সার্কেল,ই/এম প্ল্যানিং সার্কেল,ই/এম ডিজাইন সার্কেল এবং এমআইএস সার্কেল।ই/এম পিএন্ডডি সার্কেল, ই/এম প্ল্যানিং সার্কেল, ই/এম ডিজাইন এবং এমআইএস সার্কেল প্রত্যের অধীনে ৩টি করে বিভাগ রয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম জোনের অধীনে একটি ই/এম সার্কেল রয়েছে এবং এই সার্কেলের অধীনে ২টি ই/এম ওয়ার্কিং ডিভিশন ও ১ টি ই/এম পিএন্ডডি ডিভিশন রয়েছে। গণপূর্ত রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ জোনের অধীনেও ই/এম পিএন্ডডি বিভাগ রয়েছে।ই/এম প্ল্যানিং সার্কেল ও ই/এম ডিজাইন সার্কেল ও বিভাগগুলো ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজগুলোর পরিকল্পনা ও নকশা করে থাকে এবং ওয়ার্কিং বিভাগগুলো এসকল কাজের বাস্তবায়ন ও রক্ষনাবেক্ষণ করে থাকে। বিগত বছরগুলোতে গণপূর্ত ই/এম ইউনিটের কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ ভবনগুলোর ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজের রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেছেন যেগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন, বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, গণভবন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শেরেবাংলা নগরের হাসপাতালগুলো, বাংলাদেশ সচিবালয় এবং আরো অনেকগুলো ভবন।আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সরকারী ভবনের ই/এম কাজের নির্মাণ ও রক্ষনাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সিডিউল অফ রেট এবং এনালাইসিস প্রস্তুত করা। এটি সময়ে সময়ে গণপূর্ত ই/এম ইউনিট থেকে প্রকাশ করা হয়। একটি নির্ভরযোগ্য দলিল হিসেবে গণপূর্ত বিভাগ ছাড়াও অনান্য সরকারী, আধা-সরকারী অথবা বেসরকারী নির্মাতারা এটি ব্যবহার করে থাকে।

 

এমআইএস সার্কেল:

গণপূর্ত বিভাগের এনালগ থেকে ডিজিটাল যাত্রার নেতৃত্ব দিতে এমআইএস সার্কেল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছে। এমআইএস সার্কেল-এ একটি ডাটা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যার মাঝে প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার রয়েছে। এগুলো হলো সার্ভার, নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি যেমন কোর ও ডিস্ট্রিবিউশন সুইচ, এক্সেস সুইচ, রাউটার, ফায়ারওয়াল, SAN সিস্টেম, অপটিকেল ফাইবার ব্যাকবোন, দ্রুতগতির ইন্টারনেট, ল্যান সংযোগ ইত্যাদি।

 

এমআইএস সার্কেল নিম্নলিখিত সেবাগুলো দিয়ে থাকে:

 

  • নেটওয়ার্ক প্রশাসন ও রক্ষনাবেক্ষণ
  • বিভিন্ন নেটওয়ার্ক সেবা যেমন ফাইল সার্ভিস, মেইল সার্ভিস, ডাটাবেস সার্ভিস ইত্যাদি
  • বিভিন্ন সেবার জন্য সার্ভার হোস্টিং যেমন ওয়েব সার্ভিস, মেইল সার্ভিস, ডোমেইন কন্ট্রোল সার্ভিস ইত্যাদি
  • নেটওয়ার্ক রক্ষনাবেক্ষণ এবং তথ্য নিরাপত্তা
  • কর্মকর্তাদের তথ্য প্রযুক্তিগত সহায়তা
  • ডাটাবেস সফটওয়্যার এর প্রশাসনিক কাজ এবং রক্ষনাবেক্ষণ যেমন: হিউম্যান রিসোর্স ইনফরমেশন সিস্টেম, প্রজেক্ট মনিটরিং সিস্টেম ইত্যাদি
  • ডাটা ব্যাকআপ ও রক্ষনাবেক্ষণ
  • গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সকল কর্মকর্তাদের ইন্টারনেট সেবার প্রশাসনিক ও রক্ষনাবেক্ষণ কাজ

ই-সার্ভিসগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী একটি হলো HRIS সফটওয়্যার এর মাধ্যমে মানবসম্পদ ডাটাবেস তৈরী, হালনাগাদ ও রক্ষনাবেক্ষণ উল্লেখযোগ্য। আরেকটি সফটওয়্যার হলো প্রজেক্ট মনিটরিং সিস্টেম যার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলো তাদের নির্মান কাজের অগ্রগতির তথ্য ও ছবি আপলোড করতে পারে।

এমআইএস সার্কেল সরকারের এক্সেস টু ইনফরমেশন (এ২আই) প্রকল্পের সাথে ঘনিষ্টভাবে কাজ করছে এবং জাতীয় ইলেক্ট্রনিক সার্ভিস সিস্টেমের বিভিন্ন পাইলট প্রকল্পে সহায়তা করছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরে ই-জিপি চালু করতে এটি CPTU-এর সাথেও কাজ করছে। এমআইএস সার্কেল গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই-জিপি সিস্টেমের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে যাবতীয় কাজ করে থাকে। এছাড়াও এমআইএস সার্কেল বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের "Development of National ICT Intra-Network for Bangladesh Government (BanglaGovNet)" প্রকল্পের সাথে কাজ করছে।

বর্তমানে এমআইএস সার্কেল-এ একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, তিন জন নির্বাহী প্রকৌশলী, একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, একজন সহকারী প্রকৌশলী ও একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী দায়িত্ব পালন করছেন।

 

গণপূর্ত প্রশিক্ষণ একাডেমি এবং টেস্টিং ল্যাবরেটরী:

বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এর সাথে তাল মিলিয়ে পেশাজীবীদের নিজেদের হালনাগাদ রাখা আবশ্যক। বিভিন্ন বিষয়ে নতুন জ্ঞান অর্জন ও হালনাগাদ তথ্য পেতে প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। এটি পেশাজীবিদের তাদের কাজের বিভিন্ন দিকের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরী করে।

গণপূর্ত অধিদপ্তর তার মানব সম্পদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকেন। ২০১০ সালে নিজস্ব প্রশিক্ষণ একাডেমি চালু করার পর থেকে এটি আরো গতিশীলতা অর্জন করেছে।

গণপূর্ত প্রশিক্ষণ একাডেমি, শহরের প্রাণকেন্দ্র, বিজয় সরনীর পূর্ব পাশে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে অবস্থিত। এই একাডেমির প্রধান হিসেবে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদমর্যাদার একজন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাকে সহযোগিতার জন্য আছেন নির্বাহী প্রকৌশলী পদমর্যাদার একজন জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক, সহকারী প্রকৌশলী পদমর্যাদার একজন কনিষ্ঠ প্রশিক্ষক এবং অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফগণ। শুরু থেকেই গণপূর্ত প্রশিক্ষণ একাডেমি বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করে আসছে। বেশির ভাগ কোর্সই বিভিন্ন কারিগরী বিষয়ের উপর তারপরও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট-এর নিয়ম ও প্রবিধান সংক্রান্ত কোর্সগুলো যথেষ্ঠ গুরুত্ব পাচ্ছে। তাছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তথ্য প্রযুক্তির উপর দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কম্পিউটার এপ্লিকেশন সফটওয়্যার-এর কোর্স নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে।

গণপূর্ত প্রশিক্ষণ একাডেমির নিজস্ব বাসস্থান সুবিধা রয়েছে যাতে বিভিন্ন দূরবর্তী স্থান থেকে আগত প্রশিক্ষনার্থীগন ক্যাম্পাসের ভিতরেই থাকতে পারেন এতে তাদের যাতায়াতের সময় বাঁচবে এবং তারা প্রশিক্ষণ কাজে অধিকতর মনোযোগ দিতে পারবেন। এখানে বিশ্রাম ও চিত্তবিনোদনের জন্য লাইব্রেরী রুম, টিভি রুম এবং ডাইনিং রুম ছাড়াও ব্যাডমিন্টন ও ভলিবল খেলার মাঠ আছে। এই একাডেমি এরকম অন্যান্য সরকারী ও বেসরকারী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে। এতে করে এধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর রিসোর্স পার্সনদের মাঝে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়।

একটি প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসাবে এর একটি আধুনিক টেস্টিং ল্যাবরেটরী আছে যেটি কেবল প্রশিক্ষনার্থীদের ব্যবহারিক প্রদর্শনই নয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্মান স্থাপনাগুলোর নির্মান উপকরণ পরীক্ষার জন্যও ব্যবহৃত হয়।

 

উড ওয়ার্কশপ:

অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পের শোভাবর্ধক এবং বিশেষ কাঠ নির্মিত দ্রব্য পিডব্লিউডি কাঠ ওয়ার্কশপ বিভাগ দ্বারা পরিচালিত হয়. সরকারী দপ্তরসমূহের চাহিদা মোতাবেক ঊড ওয়ার্কশপ বিভাগ আসবাবপত্র সরবরাহ করে থাকে।

 

আর্বরিকাল্চার বিভাগ:

নান্দনিক এবং পরিবেশ বান্ধব প্রতিবেশ এবং প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য সৃস্টির নিমিত্তে এ বিভাগ প্রয়োজনীয় কাজ করে থাকে । সেইসাথে জলাশয় , হ্রদ , পুল , ইত্যাদি সংরক্ষন ও রক্ষনাবেক্ষন করে থাকে।